তারুন্যের বিজয় অনিবার্যঃ ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

12:00:00

8050 বার পঠিত


তারুন্যের বিজয় অনিবার্যঃ ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি ছাত্র। যুবসমাজ প্রায় ৩ কোটি। আমাদের পাশে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীন এসব উদীয়মান রাষ্ট্র। এ দেশগুলোর এগিয়ে যাওয়ার বাহন হচ্ছে যুব সমাজ। কিন্তু আমাদের তুলনায় তাদের তরুন সমাজ খুব কম। কিন্তু আমরা মেধাবী তরুনদের সে সুযোগ করে দিতে পারছিনা। তাই ঘটছে মেধা পাচারের ঘটনা। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। কোটা নামক এই জগদ্দল পাথর মেধাবীদের স্তদ্ধ করছে। এটা সকল বিশিষ্টজনদের মত। অথচ জাতির উন্নতি, অগ্রগতিতে তরুন সমাজই কর্ণধার। দেশে ক্রান্তিকালে তরুনরাই চালিকা শক্তি, প্রেরণার বাতিঘর, সাহসের দিকপাল, এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত সাহস। রাষ্ট্রীয় সংহতি বিকাশে অগ্রসেনানী। মানবতার কল্যাণে তরুনরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিতে জানে, কিন্তু নতি স্বীকার করতে জানেনা। এটাই আমাদের নিকট অতীতের ইতিহাস। তারুন্য পরাজয় একসাথে চলেনা। যুগে-যুগে ন্যায় ও সত্যের সংগ্রামী ইতিহাস এরাই রক্ত দিয়ে লিখেছে। তরুনরা পচা, পুরাতনকে ভেঙে নতুন কিছু করতে বদ্ধপরিকর। এই শক্তি কোন রক্তচক্ষুকে ভয় করে দমে যায় না। তারুন্য সদা চঞ্চল। সদা বহমান। এরা পরিক্ষীত, এরাই বীরের দল। তোমরা আবারও সাহসের প্রমাণ দিয়েছো। হে! সাহসী বীর তোমাদের অভিনন্দন।

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে নূর হোসেন গায়ে “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” শ্লোগান গায়ে লিখে রাস্তায় নেমেছিলেন এবং গুলিতে নিহত হন। তাঁর এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিলো। তিনি তরুনদের জন্য আন্দোলন করে দাবি আদায়ের প্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছেন বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও গণতন্ত্রের খোলসে স্বৈরতন্ত্রের উপস্থিতি একধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় গোটা জাতির জন্য। গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি মানেই অন্ধকারাচ্ছন্ন স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখান থেকেই জন্ম হয় ফ্যাসিবাদ, উগ্রতাবাদ আর অসহিষ্ণুতার। ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে আগ্রাসী। তেমনই এক পরিস্থিতি আজ এখানে বিরাজমান। কোন দিকেই যেন আশার আলো নেই। সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষেরা যখন নির্যাতনের শিকার। অমানিসার কালো মেঘে আচ্ছাদিত গোটা দেশ-জাতি। ঠিক তখই ছ্ত্রাসামাজের কোটা সংস্কারের একটি দাবীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা আন্দোলন এবং বিজয় গোটা জাতিকে আশার আলো দেখিয়েছে। আশাম্বিত করেছে নির্যাতিত, নিপিড়িত জনগণকে। এ জাতির শেষ ভরসা বাংলার দামাল ছেলে-মেয়েরা।

বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশে আন্দোলনগুলোর সুত্রপাত হয়েছিল ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ রুখে দেয়ার প্রত্যয় নিয়ে। তা সফল হয় ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের মাধ্যমে। উপনিবেশ শাসনের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন কারীদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করতেও দ্বিধা করেনি। তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের মুলোৎপাটনের সুঁতিকাগার রচিত হয়েছিল।

পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় আরেকটি যুগান্তকারী ছাত্র আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য। অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলো। আত্মাহুতি দিয়েছে শহীদ ছালাম, রফিক, জব্বার বরকতসহ নাম নাজানা অনেককে। যার পরিণত ফল আজকের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। এ আন্দোলনে তরুন ছাত্রসমাজই ভূমিকা পালন করেছে এবং সফলভাবে তারা দাবি প্রতিষ্ঠা করেছে। ছাত্রসমাজ অপরাপর কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর দিকে চেয়ে না থেকে একটি যৌক্তিক লক্ষ্যকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য সার্বজনীন হওয়ায় গণআন্দোলনে রুপ নিয়েছিলো এবং অপশক্তি পদানত হতে বাধ্য হয়েছিলো। 

বর্তমান ভোটারবিহীন এই সরকারের কোন অপকর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। রাজপথের সরকারী বাহীনি দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে সরকার গুম, খুন, আপহরণ, হামলা-মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে নেক্কারজনকভাবে। মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ আবারো এগিয়ে যাচ্ছে আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের দিকে। জনগণের জীবনের যখন কোন নিরাপত্তা নেই! সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ যখন নির্যাতিত। তখন ছাত্র সমাজের এ আন্দোলন আসলে আওয়ামী লীগকে কি বার্তা দিয়েছে? কেন ছাত্র সমাজ হঠাৎ করে জালিমের জিঞ্জির ভাঙতে ফুঁসে উঠেছে? কি ছিল তাদের শক্তির উৎস। গুলি, টিয়ারশেল, জলকামান, হামলা-মামলা, গুমের আশঙ্কা, কোন কিছুই তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। 

মুলত অনেক অপকর্মের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। এই তরুনদের ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছে বিগত নির্বাচনে। বছরের পর বছর ছাত্র সমাজ ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, সিট দখল, হল দখল, এমনি অনেক ছাত্রের জীবন নি:শেষ হয়েছে। মাদক, ফেনসিডিল ইয়াবা দিয়ে চরিত্র ধ্বংস করেছে এ ছাত্রলীগ। ছাত্রীদের অনেকের সম্ভ্রম হারিয়েছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্তৃক। শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে অহরহ। সর্বোপরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উদ্ভিগ্ন ছাত্র-শিক্ষক, অভিবাবক মহল। বেগম খালেদা জিয়া-মকবুল আহমাদসহ শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক মামলা দিয়ে অসৌজন্যতামুলক ও হিংসাত্নক আচরণ অব্যাহত রেখেছে এ সরকার। সব ক্ষোভের বিস্ফোরণ যেন হয়েছে একযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। প্রথমে দমন নীতি চালালেও ছাত্র সমাজের তেজদৃপ্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক, সাহসী, যৌক্তিক, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কাছে সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। কোন আন্দোলনের ইস্যু যদি আমজনতার দাবিতে পরিণত হয় তাহলে তা সফলতা আনবেই। আর যদি তা কেবলই একটি গোষ্ঠীর স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধতার প্রবণতা থাকে তাহলে তা বিকশিত হতে পারে না।  

এ আন্দোলন হলো সরকারী চাকুরীতে প্রবেশে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। যা সারাদেশে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ব্যাপকতা লাভ করেছিলো। আন্দোলনটি কোন প্রকার রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে শুরু হয়নি বরং একটি নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে শুরু হয় যার পরিণতিতে সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। মাত্র ৩-৪ দিনের মধ্যে সরকারকে দাবী আদায়ে বাধ্য করার আরেক নজির আবার স্থাপিত হয়েছে। শুধুমাত্র একটি ইস্যুকে সামনে রেখে হাজার-হাজার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনে নেমে আসে। এই আন্দোলন কোন প্রকার প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব ছাড়াই। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ ও সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া অপশক্তিকে একটি আকস্মিক বার্তা দিয়েছে। তাছাড়া সরকারের একজন মন্ত্রী যেভাবে নাস্তানাবুদ হয়েছেন। বিশেষ করে শাহবাগে মতিয়া চৌধুরীর কুশপুত্তলিকা দাহন, ছাত্রলীগের নেত্রীকে বহিস্কার, জুতার মালা পরানো এ সবই আওয়ামী লীগের জন্য এক অশুভ বার্তা দিচ্ছে! অথচ এই শাহবাগেই অন্যদের চরিত্র হননের কাজ চলেছে মতিয়া গংদের প্ররোচনায়। কিন্তু না, সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনিই যাকে চান সম্মানিত করেন। তিনি কাউকে অসম্মানিত করতে চাইলে দুনিয়ায় কেউই তাকে সম্মানিত করতে পারেননা।

তাছাড়া আকস্মিকভাবে আন্দোলন দানা বাধাও অনেকটা বিরল। শাসকগোষ্ঠী যদিও মনে করে সবই তাদের নিয়ন্ত্রনে! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বহীন একটি আন্দোলনের কাছে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগও পরাস্ত হতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এহেন কোন অপরাধ নেই ছ্ত্রালীগ করেনি বিগত বছর গুলোতে। সুতরাং এ পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আন্দোলনকে উসিলা করে তা বহি:প্রকাশ ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের উপর ছাত্রলীগ-পুলিশ আক্রমণ করেও পরাজিত হয়েছে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীর বর্বরতার জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে জুতোর মালা গলায় দিয়ে সমোচিত জবাব দিতেও পিচপা হয়নি সাধারণ আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের সাথে অপব্যবহার ও নির্যাতনের অপরাধে এশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের ঘটনাও ঘটে। 

আন্দোলনে  বিতর্কিত ভূমিকার দরুন সারাদেশে ছাত্রলীগের ইমেজ সংকট এখন আরো প্রকট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগও আন্দোলনের কাতারে এসে সংকট থেকে উত্তরনের পথ খোঁজতে বাধ্য হয়েছে। তরুন ছাত্রদের এই আন্দোলনের পিছনেও অনেক ত্যাগ রয়েছে। আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে পুলিশের হাতে মারাত্মকভাবে আহত ও গ্রেফতারের শিকার হয়েেেছন। পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সরকার দলীয় ক্যাডার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হয়েছে সাধারণ আন্দোলনকারীদের উপর। তবুও তারা কোনভাবে পিছপা হননি। 

আশিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আশিকুরের বন্ধুরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ রাতে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে, তখনই গুলিবিদ্ধ হন আশিকুর। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা শিখ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় গুরুদুয়ারা নানক শাহীর ঠিক সামনে হঠাৎ তিনি ঢলে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ছোড়া গুলিই আশিকুরের বুকে লাগে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. শাহরিয়ার হোসেন, অন্যজন নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. তানভীর হাসান। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলির আটটি স্প্লিন্টার লাগে শাহরিয়ারের পিঠে। আর পুলিশের লাঠিপেটায় মাথা ফেটে যায় তানভীর হাসানের। 

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রাত দুইটার দিকে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। তখন টিএসসি থেকে আন্দোলনকারীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে সরে যান। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর এবং ঢাকা কলেজের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। ( সুত্র: প্রথম আলো)

সরকার প্রথমদিকে এটিকে বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে দমনের চেষ্টা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার একসময় কোটা ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে অনঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। শেষমেষ আন্দোলনের তীব্রতার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হন।

এটি প্রমাণিত সত্য যে-তরুনদের আন্দোলনকে দাবিয়ে রেখে কোন অপশক্তিই টিকে থাকতে পারেনি আগামীতে ও পারবেনা। আমাদের সামনে এর অসংখ্য নজির দেদিপ্যমান আছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব বসস্তও এক যুবকের আত্মাহুতির ফল। আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল তিউনিসিয়ায় ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশটির অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বোয়াজিজ নামের এক যুবকের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতির মাধ্যমে। এরপর ২০১১ সালের ১০ জানুয়ারি মাসে দেশটির স্বৈরশাসক জয়নুল আবদিন বেন আলী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং গণতন্ত্রের যাত্রা তিউনিসিয়ায় আরম্ভ করে। আর পথ ধরে মিশর লিবিয়া, সিরিয়াম ইয়েমেন বাহরাইনসহ অগণতান্ত্রিক আরবকে ছুঁয়ে যায়। রুপ নেয় গণআন্দেলনে। সংঘঠিত হয় আরব বসন্তের।

বাংলাদেশের আন্দোলনগুলো অনেকাংশে বিশেষ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। সেদিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন কোন প্রকার ফল বয়ে আনতে পারছে না সাম্প্রতিক সময়ে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগ, ১৯৮৭ সালের নুর হোসেনের গণতন্ত্র মুক্তিতে আত্মাহুতি বা তিউনিসিয়ার বোয়াজিজের মত আত্মাহুতি কি আবারো প্রয়োজন? না এদেশের রাজনীতিবিদরা ছাত্র আন্দোলন ও তাদের আত্মাহুতির নজির থেকে শিক্ষা নিয়ে সকলের স্বার্থে, দলীয় ও আত্মস্বার্থের গন্ডি পেরিয়ে সার্বজনীন আন্দোলন গড়ে তুলে অপশক্তির মুলোৎপাটনে ত্যাগী নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন? বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারী, লুটপাট সর্বোপরি সাধারণ মানুষকে শোসনের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে একটি সমন্বিত জোড়ালো আন্দোলন ও ত্যাগ স্বীকারের কোন বিকল্প পথ নেই। 

দেশের জন্য আজ প্রয়োজন আত্মত্যাগে বলিয়ান একদল নির্ভীক তরুন প্রজন্ম। জেগে উঠা তরুন প্রজন্মই কি সেই দায়িত্ব নিবে? আর তা না হলে গোটা জাতি এক অনিশ্চিত গন্তব্যে স্থায়িত্ব পাবে। যেখানে মুক্তি সুদূর পরাহত। রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বে জাতির শুধু ক্রান্তিকালই বয়ে আনে মাত্র। পরাধীনতার গ্লানি দুনিয়ার বুকে অপমান, অপদস্থতার স্থায়ী নিবাস!! ইতিহাস সাক্ষী যেখানেই তরুনরা ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়েছে সেখানেই অপশক্তি পদানত হতে বাধ্য হয়েছে। তাই দেশ জাতি গনতন্ত্র, ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এমন কোন আন্দোলন কি আবারো দানা বাধঁবে? 

লেখক: সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।