ভারতীয় ইমামের মহানুভবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত

12:00:00

1637 বার পঠিত


ভারতীয় ইমামের মহানুভবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমঃ পৃথিবীতে ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ দিয়েই যাচ্ছে বিরোধীরা। আজকাল ইসলাম  ধর্ম ও এর অনুসারীদের গোঁড়া, সাম্প্রদায়িক, সহিংস ও চরমপন্থী ইত্যাদি বিশেষণে চিত্রিত করা হয়। অথচ ইসলাম এ থেকে পুরোপুরি মুক্ত। ইসলাম বরং দয়া ও ন্যায়ের ধর্ম, উদারতা ও ভালোবাসার ধর্ম। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ধর্ম আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়? তিনি বলেন, ‘কাঠিন্যমুক্ত উদার নিষ্ঠাপূর্ণ ইবরাহিমি ধর্ম।’ (মুসনাদ আহমাদ)।

মানবজাতিকে অন্ধকার গহব্বর হতে আলোর পরশে নিয়ে এসেছিলেন ইসলামের মহান আদর্শ। তবে ইসলামের মহান আদর্শ কোন কালেই সরলপথে প্রতিষ্ঠা পায়নি। ক্ষয় করতে হয়েছে হাজারো প্রাণের। ভাসাতে হয়েছে লাল প্রবাহধারা। তবে সে ধারা যে আজোও থামেনি থামছে না! পৃথিবীব্যাপি সে মহান আদর্শের মানুষদের বিরুদ্ধে যে ক্রুসেড চালানো হচ্ছে তার শিকড় অনেক গভীরে প্রথিত।  

ভারতীয় উপমহাদেশে সেই অঘোষিত ক্রুসেডের গোড়াপত্তন হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে। ব্রিটিশ বেনিয়ারা এসে এর নতুন ধারা প্রবর্তন করে গেছেন একশত নব্বই বছরের দীর্ঘ শাসনামলে। কিন্তু ১৭৫৭ সালের মীর জাফরদের কারণে ভারতীয় মুসলিমদের কপালে স্থায়ীভাবে নির্যাতনসূচী রচিত হয়, পতন হয় আটশত বছরের মুসলিম শাসনামলের দীর্ঘ ইতিহাস। ১২’শ থেকে ১৬’শ শতাব্দীতে ভারতীয় উপমহাদেশে দিল্লী সালতানাতের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের গোড়াপত্তন হয়ে ৮’শ বছর শাসন করে মুসলিমরা। গড়ে উঠে সমৃদ্ধ মুসলিম সভ্যতা। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি ভারতের অধিকাংশ এলাকা জয় করেছিলেন। 

দীর্ঘ আটশত বছরের শাসনামলে মুসলমানরা বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করলেও এর ধারাবাহিকতা তারা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয় নিজেদের বিলাস-ব্যাসন ও অদূরদর্শিতার কারণে। পতন হতে থাকে গোটা অর্জনের। তদুপরি ইসলামের মহান বাণী ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মুছে যায়নি। কিন্তু মুসলমানদের গলায় নির্যাতনের শিকল পড়ালেন ব্রিটিশ শাসকরা তা আজোও মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভৌগলিক রাজনৈতিক কারণেও মুসলমানরা আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ হলেও তা স্বাার্থান্বেষী জমিদার শ্রেণি হিন্দুদের কারণে তা ১৯১১ সালে রদ করা হয়। কারণ প্রথমে হিন্দুরা মুসলিমদের শোষণ করার স্বার্থে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে থাকে। অপরদিকে যখন তারা দেখলো বাংলাদেশে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি সেক্ষেত্রে তারা সফলকাম হতে পারবে না তখন তারা তা রদ করতে আন্দোলন করতে থাকে। এর ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। হিন্দুত্ববাদী ভারত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এক সময়ের স্বাধীন হায়দ্রাবাদকে ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে ভারত দখল করে নেয়। ঠিক একইভাবে সিকিমকেও তারা দখল করে নেয়। অন্যদিকে মুসলিম অধ্যষিত কাশ্মীরকে দখল করে মুসলিমদের উপর অব্যাহত ভাবে তারা নির্যাতন চালাচ্ছে। 

গোটা ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের বসবাস থাকলেও তাদের জীবন কাটে সদা শংঙ্কায়। কেননা প্রতিনিয়ত সেখানে লেগেই আছে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বছরের পর বছর এসব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রাণ হারাচ্ছে শত শত তরুন মুসলিম ও যুবক। বাদ যাচ্ছেনা নারী ও শিশুরাও। 

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ তপন চৌধুরি বলেছেন, “ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ব্রিটিশদের সৃষ্টি।” তারা বলছেন, আবহমানকাল থেকেই হিন্দু মুসলমানের গলা কাটছে, মুসলমান হিন্দুর গলা কাটছে- এটি ঠিক নয়। তিনি বলেন সুলতানি আমল, মুঘল আমল এমনকি ব্রিটিশ আমলের প্রথম শতকেও হিন্দু-মুসলমান পরস্পর সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই পাশাপাশি বসবাস করছে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়েছে বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশক থেকে। 

তপন চৌধুরি বলেন, উপমহাদেশের ইসলাম পারস্য প্রভাবিত নরম মেজাজের নাগরিক ইসলাম। এই ইসলাম মানুষকে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আর এরই প্রমাণ মেলে সম্প্রতি ভারতের আসানসোলের আপন সন্তানহারা ইমামের ইসলামের মহানুভবতার নজির স্থাপনকারী মাওলানা ইমদাদুল রাশিদীর ভূমিকায়।

গত ২৫ মার্চ হিন্দুদের রাম নবমীর শোভাযাত্রার সময় কট্টরপন্থী হিন্দুদের নৃশংসতায় নিহত হন মাওলানা ইমদাদুল্লাহর ১৬ বছরের কিশোর ছেলে সিবতুল্লাহ রাশিদি। হায়েনারা তাকে শুধু হত্যাই করেনি বরং তার বুক চিরে কলিজা বের করে ফেলেছে। সিবতুল্লাহ রাশিদিকে হত্যার ঘটনায় মুসলিমদের মাঝে একপ্রকার প্রতিশোধ স্পৃহা জন্ম নিলেও নিহত সিবতুল্লাহর বাবার অসাধারণ ভূমিকায় তা নিমিষেই মন থেকে মুছে ফেলে সকল মুসলমান। বেঁচে যায় গোটা ভারতজুড়ে সম্ভাব্য হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। তিনি আপন সন্তানের জানাযায় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলছিলেন, আপনারা কারো প্রতি কোন আঙ্গুল তুলবেন না। ঘটে যাওয়া বিষয়টিকে তিনি একটি ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে বলেন, আসানসোলের সকল মানুষ এমন নিষ্ঠুর নয়। ইসলাম কখনো বিশৃংঙ্খলা শেখায় না বরং শান্তি-শৃংঙ্খলার সাথে বসবাস করতে শেখায়। ইসলাম কোন নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে শেখায় না। সিবতুল্লাহ রাশিদীর যতদিন হায়াত আল্লাহ রেখেছিলেন সে ততদিনই বেঁচেছে।

আসানসোল নূরানী মসজিদের ইমাম ইমদাদুল সন্তান হারানোর ব্যাথাকে বুকে চাপা দিয়ে শান্তিপ্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের মহানুভবতার উদাহরণ পেশ করেছে। তার এই ইসলামিক মহানুভবতার জন্য তাকে ভারত রত্ন খেতাবে ভূষিত করা দাবি তুলেছেন ভারতের একজন প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী ও সুরকার এবং কলকাতার এই সাবেক সাংসদ। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে এ দাবি জানান। সুমন কবির মুখ্যমন্ত্রীকে ইমাম ইমদাদুল সাহেবের জন্য গণসংবর্ধনার আয়োজন করতে আহবান জানিয়ে তাকে প্রনাম করার কথা ও ভারতজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহবান করেন। 

আবার যাদের হাতে সিবতুল্লাহ নিহত হলেন তাদেরই এক প্রখ্যাত প্রবন্ধকার লেখক সাহিত্য সম্রাট প্রয়াত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্য-কর্ম মুসলিমদের প্রতি বিষোদগাড় করেছেন প্রবলভাবে। যার প্রভাবই মনে হচ্ছে যুগ যুগ ধরে চলে আসা হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। তাঁর লেখা ‘আনন্দ মঠ’, ‘দুর্গেশ নন্দিনী’, দেবী চৌধুরানী’,‘সীতারাম’ ইত্যাদিতে প্রতিবেশী মুসলিম সমাজের প্রতি শুধু বিষোদগাড় করেই ক্ষান্ত হননি ‘মার মার, দেবতার শত্রু মার, হিন্দুদের শত্রু মার প্রভৃতি আক্রমনাত্মক শব্দাবলীর ব্যবহর করেছেন। সীতারাম গ্রন্থে তিনি মুসলমানদের হিন্দুদের শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি হিন্দুমৌলবাদী দর্শনের জনক ও প্রবক্তা হিসেবে সংঘাতময় হিন্দু সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রসার ঘটাতে চেয়েছিলেন।

তবে ভারতব্যাপী সাম্প্রদায়িক সংঘাতময় রাজনীতি থেমে নেই কেননা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের দল ভারতীয় জনতা পার্টি একটি চরম হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের অনুসারী। তাদের মূল লক্ষ্যই হল একটি হিন্দু রাষ্ট্র কায়েম করা। একারণেই দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত দাঙ্গার কবলে পরে প্রাণ হারাচ্ছে। ভারতের আরেকটি রাজ্য আসামেও চলছে মুসলিমদের উপর নির্যাতন। সেখানে লাখ লাখ বাংলাভাষী মুসলমানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বাংলাদেশের দিকে। অন্যদিকে মায়ানমারের আরাকানের মুসলিমরাও চরমভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হয়ে হাজার হাজার মুসীলম প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ বনি আদম। এভাবেই এই অঞ্চলে মুসলিমরা আজ নির্যাতনের রোষানলে পিষ্ট।

ভারতে মুসলিমরা উদারতা প্রদর্শন করে ইসলামের মহানুভবতার যে বহিঃপ্রকাশ করেছেন এর সুফল একদিন মুসলিমরাই পাবে। তাদের এশিক্ষা পবিত্র কোরআন ও হাদিস থেকেই তারা পেয়ে থাকেন। পবিত্র কোরআন শরীফের আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন-‘‘আল্লাহ নিষেধ করেন না, ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে, যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয়নি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।’’ সূরা মূমতাহিনা, আয়াত-৮)। এখানে অমুসলিমদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে বলেই না শুধু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ইনসাফের এটি একটি সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষা। আরেকটি হাদীসে বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা কোনো নারীকে হত্যা করো না, অসহায় কোনো শিশুকেও না; আর না কোন অক্ষম বৃদ্ধাকে, আর কোন গাছ উপরে ফেলবে না, কোন খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোন গৃহও ধ্বংস করবে না। [ মুসলিম -১৭৩১]

মহানবী (সা.) এর জীবনের নানা ক্যানভাসে এ উদারতা ও কোমলতা ফুটে ওঠে, যা দৃশ্যমান হয় তাঁর ইবাদত ও লেনদেনে এবং সঙ্গী-স্বজন ও শত্রু-মিত্রের সঙ্গে কৃত তাঁর আচরণ এবং আখলাকে। 

বোখারি, মুসলিম ও মুসনাদে আহমাদে জাবের (রা.) এর ভাষ্যে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে জাতুর রিকা অভিযানে ছিলাম। সুপরিসর ছায়া ছড়ানো এক বৃক্ষের নিচে আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) কে রেখে (নিজেদের মতো বিশ্রামের জন্য) গেলাম। এরই মধ্যে এক মুশরিক এসে তরবারিসহ তাঁর শিয়রে দাঁড়িয়ে গেল। সে তাঁকে বলল, কে আপনাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ’। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে তরবারিটি পড়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (সা.) সেটি হাতে তুলে নিলেন। এবার তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাকে কে বাঁচাবে আমার হাত থেকে?’ সে বলল, আপনি উত্তম গ্রহণকারী হয়ে যান। জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই?’ সে বলল, না। তবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করব না এবং এমন লোকদের সঙ্গীও হবো না, যারা আপনার সঙ্গে লড়াই করে। এ কথা শুনে নবী (সা.) লোকটিকে ছেড়ে দেন।” বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তারপর নিজের সঙ্গীদের মাঝে ফিরে যায়। তাদের গিয়ে বলে, ‘আমি তোমাদের কাছে এসেছি শ্রেষ্ঠতম মানুষের কাছ থেকে।’ রাসুল (সা.) লোকটিকে ইসলাম গ্রহণে জবরদস্তি করেননি। কৃতকর্মের জন্য তাকে শাস্তিও দেননি। ফলে লোকটির হৃদয়ে ইসলাম প্রবেশ করে। তিনি স্বজাতির কাছে ফিরে যান। আল্লাহ তার মাধ্যমে অনেক মানুষকে হেদায়েত দান করেন।

রাসুল (সা.) এর উদারতার আরেক নিদর্শন মোশরেকদের জন্য এ মর্মে তাঁর দোয়া করা যে, আল্লাহ যেন তাদের অন্তরগুলোকে ইসলামের পথে ধাবিত করেন। বোখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, “তোফায়েল ও তার সঙ্গীরা এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.), (ইয়েমেনের) দাউস গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং কুফরি করেছে। আপনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করুন।’ উপস্থিত লোকেরা বলতে লাগল, ‘দাউসের লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে। দাউস ধ্বংস হয়ে গেছে।’ নবী (সা.) বদদোয়া না করে তাদের জন্য দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ, আপনি দাউস গোত্রের লোকদের হেদায়েত দিন এবং তাদের (আমার কাছে) এনে দিন। হে আল্লাহ, আপনি দাউস গোত্রের লোকদের হেদায়েত দিন এবং তাদের (আমার কাছে) এনে দিন।”

ইহুদিরা এ সুযোগ লুফে নিত। নবী (সা.) এর সামনে এসে তারা কাশির ভাব করত। যাতে তিনি তাদের অসুস্থ মনে করে তাদের জন্য দোয়া করেন। নবী (সা.) তাদের বঞ্চিত করতেন না। তাদের জন্য হেদায়েত ও কল্যাণের দোয়া করতেন। যেমন সুনানে তিরমিজিতে আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, “ইহুদিরা নবী (সা.) এর সামনে কৃত্রিম কাশি দিত, যাতে তিনি তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। নবী (সা.) দোয়া করে বলতেন, ‘আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত দিন এবং তোমাদের অবস্থা শুধরে দিন।” আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’(সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। সুতরাং মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (স:) এর উম্মত হিসেবে আমাদেরও উচিৎ মানবতার সামনে ইসলামের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। 

আসানসোলের ইমদাদুল রাশিদীর মত ইমামরা ভারতে যুগ যুগ ধরে এরুপ উদারতা ও মহানুভতার পরিচয় দিয়ে ইসলামের খেদমত করে যাচ্ছে। তারা কোন সময় বিশৃংঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতি করতে উদ্যত হননি। মুহাম্মদ বিন কাশিম মাত্র ১৭ বছর বয়সে ভারতীয় উপমহাদেশে যে ইসলামের আলোকবর্তিকা এনেছিলেন ও ইসলামী সভ্যতার গোড়াপত্তন করেছিলেন তা আবারো একদিন পূনঃবিকাশ লাভ করবে। সন্তানকে হারিয়েও ভারতীয় ইমাম এর এই মহানুভবতার তারই বার্তা বহন করছে।  

লেখক: সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।