ঢাকা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭, সোমবার রাত; ০৮:৩৪:৪৭
  

যুদ্ধাপরাধী আইনের পোষ্টমর্টেম - ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম


আইন দিয়ে বিচার করা হয় এটাই আমরা জানি। কিন্তু না! আইনের ও মাঝে মধ্যে বিচার হয়। যে আইন, মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে যে আইন মানবাধিকারের পরিপন্থী, যে আইন সমাজে বিশৃঙ্খলা, জিঘাংসা আর হানাহানির আশংকার জন্ম দেয় সেই আইনকেই আমরা কালো আইন বলে থাকি। আমাদের সমাজে আইনের বিচার বা কাঠগড়া বলে একটা কথা আছে। তাহলে সে আইনের বিচারক কে? আর কোন আইন দিয়ে মাপা হবে তার উত্তীর্ণতা। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলে ও, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন যে একটি কালো আইন তা নিয়ে এখন আর কোন সন্দেহ নেই। এই কথা সত্য সেই বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ আইন আজ নিজেই এখন আদালতের কাঠগড়ায়। এখন যুদ্ধাপরাধ আইনের পোস্টমর্টেম চলছে, এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে। এই আইন দিয়ে ও কোন ন্যায় বিচার একেবারেই অসম্ভব। যা নিয়ে আজ বিদেশে দেশে বিতর্কের শেষ নেই। অবশ্য আইন বিশেষজ্ঞরা ভাল বলতে পারবেন পৃথিবীতে কোন আইন বা ট্রাইবুনাল নিয়ে এর আগে এত বিতর্ক হয়েছে কিনা? অথবা আইনের পরিবর্তে এত শক্তির প্রয়োগ পৃথিবীর কোন বিচার কার্যে অথবা ট্রাইবুনালের ক্ষেত্রে দেয়ার ইতিহাস কেউ প্রত্যক্ষ করেছে কিনা? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে এই আইন পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ,সমালোচিত, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, কালো আইন ও ক্যাঙ্গারু কোর্ট হিসেবে গ্রীনিজ বুকে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে। এটি মহাজোট সরকারের একটি কুখ্যাত ও স্বেরাচারী অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা এই সরকার যখন প্রথম বলেছে, তখনই আইনের প্রভুর দেশ হিসেবে খ্যাত যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লডর্স এটিকে শুধু কালো আইন হিসেবেই চিহ্নিত করেনি বরং আইনটি সংশোধনের জন্য ১৭ টা পয়েন্টে তাদের অবজারবেশন তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের নিকট তাদের মতামত পাঠিয়ে দিয়েছে।

মহাজোট সরকার যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লডস এর এ ধরনের মতামতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কারন সরকারের ধারণা ছিল কট্টরপন্থী উগ্র মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের মদদ দাতা জামায়াত নেতাদের বিচার হবে, আর সেখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন দিবে এটাই স্বাভাবিক। শুনা মাত্রই বলবে কট্টরপন্থী উগ্র মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের মদদ দাতা জামায়াত নেতাদের বিচারে আবার আইন লাগে নাকি? তাদের বিচারে আবার মানবাধিকার কিসের? কিন্তু না,যুদ্ধপরাধী দের বিচারের ব্যাপারে দু মোড়ল রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাবে রাজনৈতিক পতি পক্ষকে ঘায়েল করতে মহাজোট সরকারের অতি-উৎসাহী শিবিরে ভাটা পড়ে। আইনমন্ত্রী ছুটে যান আমেরিকায় সেখানে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঠিক করে আসেন এটা যুদ্ধপরাধীদের বিচার নয়, এটা মানবতা বিরোধী আপরাধের বিচার। আমেরিকা বলে দিয়েছে আমরা বাংলাদেশ নিজেরাই সফর করে আমাদের মতামত দিব। যদিও ইতিপূর্বে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাফ জানিয়ে দিলেন,‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে প্রশ্ন তোলার অধিকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেই’ বলে । ‘যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে বলে দিতে চাই, ৩৯ বছর আগে যখন এ দেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হলো, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত নেয়া হলো, এক কোটি মানুষকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হলো তখন আপনাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? সে দিন কি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়নি? সেই ঘটনার বিচার করলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারোই নেই।’

যতই রাগঢাক বিশ্বের মোড়ল বলে তো কথা। কিন্তু এত প্রতিক্ষার পর সম্প্রতি বাংলাদেশে সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জেযাপপ সফরে এসে যা বললেন তাতে সরকার সবচেয়ে বেশী হতাশ হয়েছে। সম্ভবত আওয়ামীলীগ সরকার সেই ক্ষোভ ও হতাশা , দু:খ বেদনা থেকেই এদেশে আমেরিকার মিত্র বলে পরিচিত ড়.মুহাম্মদ ইউনুসের উপর খাড়া কোপ দিলো বসলো। এক ঘাতে দু,দু,জন থেকে পতিশোধ নিলেন। যদি ও সরকার ড়.ইউনুস ইস্যু তে আন্তর্জাতিক আইনে সমালোচনার জড় এখনো পরিসমাপ্তি ঘটেনি।
তাছাড়া মাত্র কয়েকদিন আগেইতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জেযাপপ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইন যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে আইনে \'৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে সেই আইনটি হতে হবে আন্তজাতিক মানদন্ডে উন্নীত। বর্তমানে বিদ্যমান \'৭৩ এর আইন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ৪ দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি উপরোক্ত মত প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টিফেনর্যানপ বলেন, অভিযুক্তকে পর্যাপ্ত আইনী সুযোগ দিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল যেসব আদেশ এবং পরোয়ানা দিবে অপরাধীর বিরুদ্ধে, অপরাধীকে তা পুনবিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনী আদালত থাকতে হবে। আটককৃত ব্যক্তিদেও মৌলিক অধিকার আজ সবচেয়ে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

শুধু কি তাই? এই আইন এতটাই মৌলিক অধিকার হরণ করছে ট্রাইবুনালের বিচারক পর্যন্ত বলেছেন, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া আর কত আটকিয়ে রাখা যায়। যদি ও এটি বিচারকরের বিবেকের কথা। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো বিচারকের ও হাত পা বাধা। তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন কি? এই প্রশ্নটি আজ জনমনে দারুনভাবে দেখা দিয়েছে। কারণ তা না হলে ঐ বিচারক জামিনই দিতেন পারতেন। তাতো বিচারপতি করতে পারেননি।

গত ৭ ডিসেম্বর যুত্তপ্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মার্কিন যুত্তপ্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন বুজম্যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক চিঠিতে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে আটকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ করেছেন। তিনি এই বিচারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) অ্যাক্টকে ত্রু টিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। জন বুজম্যান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে এ পর্যন্ত যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন , বিশেষ আদালত স্থাপন, বিচারক প্যানেল গঠন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ (আদালত) অ্যাক্টকে নিরপেক্ষ ও ¯¦চ্ছ করার লক্ষ্যে বিতর্কিত কিছু ধারাও পরিবর্তন করা হয়েছে মর্মে জেনেছি আমি।’ আইনটির বিষয়ে সবচেয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়া বিভাগ, দ্য ওয়ার ত্রপ্তাইমস কমিশন অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, দ্য ওয়ার ত্রপ্তাইমস প্রজেক্ট ও অ্যামনে¯িট ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এই আইনের মাধ্যমে বিচারকাজ চালিয়ে গেলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিতর্ক বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী যিনি সাধারণ সামরিক আদালতের বিচারক হওয়ার যোগ্য তিনি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা মেম্বার হতে পারবেন। কিন্ত– আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী সামরিক আদালতের বিচারকরা কেবল সামরিক সংত্রপ্তান্ত বিষয়েই বিচার করতে পারেন। উপরন্ত–, ট্রাইব্যুনালের কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলা যাবে না এবং অভিযুত্তপ্ত ব্যত্তিপ্ত ট্রাইব্যুনালের কোনো ধারার বিরুদ্ধেও কোনো চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না। তিনি আশঙ্কা করেন যে, আইনটিকে সংশোধন করে যদি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা না হয় তাহলে এই আইনের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনা করা হলে অভিযুত্তপ্ত ব্যত্তিপ্তর মানবাধিকার রক্ষা অসম্ভব হবে। আইনটি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে তাতে দায়মুত্তিপ্ত থেকে বের হয়ে আসার যে উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে তা যেমন চাপা পড়ে যাবে তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বার্তা ছড়িয়ে পড়বে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এ আয়োজন করা হচ্ছে।
সিনেটর বুজম্যান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে যে, ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত করার মতো বিষয়ের সাথে জড়িয়ে জামায়াতের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযোগে গ্রেফতার করে তাদের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; এতে করে আইনটির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবাহারের বিষয়টি আবারো সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, যেহেতু আপনার সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ দলের একনিষ্ঠ মিত্র জামায়াত, সেহেতু জামায়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধান প্রতিপক্ষকে দুর্বল করাই হলো ট্রাইব্যুনালের প্রথম কাজ; এ বিশ্বাসই সমাজে এখন বিদ্যমান। যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠনের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক বিচার অঙ্গনের অনেকেই স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্ত– স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ বিচার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনাগ্রহের কারণে তারা সবাই উদ্বিগ্ন যে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হতে পারে।

এর আগে ১৪ জুলাই ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যালেন ডানকান ঢাকায় সফরে আসলেন সরকারের ধারণা ছিল এখন বোধ হয় তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। ব্রিটিশ এ মত্রীর সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েদিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করলে চলবে না। ব্রিটিশদের এমন পুরাতন মনোভাবে খুব ক্ষুদ্ধ হলেন আমাদের আইন মন্ত্রী।

অথচ পাঠকবৃন্দ- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিদেশীদের পুরোপুরি সমর্থন আছে আইনমন্ত্রী,পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনেকবার গাল ভরে এ বক্তব্য এজাতি অনেকবার শুনেছে। এটাই আওয়ামীলীগের চরিত্র। তাদের স্বার্থের বাহিরে গেলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য,আইন, আদালত, বৈধ-অবৈধ সত্য-মিথ্যা কিছুই মানেন না। নিজের স্বার্থে আঘাত লাগলে আওয়ামীলীগ পৃথিবীর মহাশক্তিধর যুক্তরাষ্টকে ও তুলো ধুনো করতে দ্বিধা করেনা। এর নামই আওয়ামীলীগ। অথচ কর্নেল তাহের হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান জড়িত এটি বলা জন্য বিদেশ থেকে এক সাংবাদিক ধরে নিয়ে এসে তার বক্তব্য আওয়ামীলীগ এবং মিত্র মিডিয়াগুলো কিভাবে প্রচার করছে এটি সবাই দেখেছে। ১/১১ পর জাতি সংঘের তথাকথিত চিঠির দোহাই দিয়ে জরুরী অবস্থা কায়েমের ঘটনা ও তো আমরা দেখেছি। এটার নামই আওয়ামীলীগ যারা নিজেদের পক্ষে গেলে অসত্য কে সত্য আর রাত কে দিন বানাতে দ্বিধাবোধ করেন না। যারা নিজেদের পক্ষে গেলে জাতীয় সংঘের আবাসিক প্রতিনিধির চিঠিতে ও ১/১১ জরুরী অবস্থার সমর্থন যোগান, আবার নিজেদের বিপক্ষে গেলে পৃথিবীর দু,পরাশক্তির বিরুদ্ধে হেন কথা বলতে দ্বিধা করেন না।

এত সব যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাচ্ছে। এমনি এক টানটান উত্তেজনাকর মুহুর্তে আমেরিকা আসলে কি ভাবছে? আমেরিকার হার্ডকোর মুখপাত্র হিসেবে খ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার, ইশান ঠাকুরের লেখা ওই প্রতিবেদনটি টাইম-এর ৩রা আগস্ট অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়। ‘বাংলাদেশ : ব্রিফিং এ ফরগটেন জেনোসাইড টু জাস্টিস’ শীর্ষক বিপোর্টে বলা হয়- বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশেও এ বিচার প্রক্রিয়ার জন্য বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে সরকার তার পরিচিত প্রতিপক্ষ এবং রাজনৈতিক শত্রু দেরকে দমন করতেই এ বিচারকে ব্যবহার করছে। ‘এ বিচার প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব স্বচ্ছ হতে হবে। সরকার যদি পুরোপুরিভাবে সেটা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটা সমগ্র জাতির জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে।’ তবে এগিয়ে যাবার পথ এখনও আঁধারে আচ্ছাদিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ত ভারত ও আমাদের দেশের বাম বুদ্ধিজীবি দের চাপে যে কি কাজ হাত দিয়েছেন তা কিনচিত হলেও মাঝে মধ্যে উপলব্ধি করেন, এবং এ বিচার সমগ্র জাতির জন্য কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে তা ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য থেকেই বুঝা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন -যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হাতে নিয়েছি’ বলে অভিহিত করে ঘোষণা দিলেন।

আওয়ামীলীগ এতবড় বড় যুদ্বপরাধীদর গ্রেফতার যে কায়দায় করল তা রীতিমতো হাস্যকর। একটি ঠুনকো অসত্য ও জামিন যোগ্য মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার সরকার শক্তিহীনতার পরিচয় দিয়েছে। দ্বিতীয়ত এই জাতীয় নেতাদের গাড়ী পোড়ানো, পুলিশী কাজে বাধা, পুরাতন হত্যা মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশকে খেলো ও পুতুল বাহিনীতে পরিণত করেছে।

জাতীয় নেতাদের এ ধরনের হাস্যকর মামলায় প্রায় মাসাধিক কাল রিমান্ডে শেষে এবার ভয় হলো কখন যুদ্ধাপরাধীরা জামিনে বের হয়ে পড়ে, তাহলে কি করা যায়, প্রভুদের ইশারায় এবার তড়িঘড়ি করে যুদ্ধাপরাধীদর ট্রাইবুনালে হাজির করে প্রেফতার দেখানো, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোন সু-নিদ্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সরকার যুদ্ধাপরাধীদর বিচারে শুরুতেই অ-স্বচ্ছতার পরিচয়ই দেয়নি যুদ্ধাপরাধীদর বিচারের ট্রাইবুনালে বিতর্কের শেষ পেরেকটি মারলেন এড. টিপু সাহেব। এই জন্যেই মনে হয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এক আলোচনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদর বিচারের ট্রাইবুনালের প্রধান প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন” ছাগল দিয়ে হাল চাষ হয়না” ।

প্রথমেই যুদ্বপরাধীদর বিচারের ট্রাইবুনালের গ্রেফতারে অ-স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলনেন অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেন- মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের গ্রেফতারের বিষয়টি আইনসম্মত হয়নি।
পাঠকবৃন্দ এখানে ও লক্ষ্য করুন এডভোকেট আনিসুল হক উনি যখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মন্তব্য করলেন তখন তা তার ব্যক্তিগত মত হয়ে গেল।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে মানুষ অনেক বেশী অপরাধ করলে হিতাহিত জ্ঞান লোভ পায়। সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের অবস্থা তেমনই মনে হয়। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেছেল ” শেখ হাসিনার মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে”। অবশ্য এর আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কে হাইকোর্ট একটি সতর্কবানী উচ্চারণ করেছেন। এটি পাঠকদের সকলেরই জানা। আবশ্য মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার ভয়ে তা,লিখলাম না। কারণ এখন দেশে নাকি মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার মৌসম চলছে।

সরকার এখন যুদ্ধাপরাধের ভুতে আক্রান্ত। গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ দ্রব্যমূল্যেও উর্ধ্বোগতি নিয়ে আন্দোলন, আইন শৃঙ্খলার অবনতি, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকদের মারামারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ,আড়িয়ালের বিলের ঘটনা, প্রমাণ করে জনগণের সমস্যা সমাধান না করে সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারের রাজনৈতিক ঢাল দিয়ে এখন আর সরকার রক্ষা পাচ্ছে না। তাছাড়া মিশর সহ গোটা মধ্য প্রাচ্যেও জনতার আন্দোলনের বিজয়ে বিরোধী শিবিরে যেমন উচ্ছ্বাস তেমনি সরকার ও ভিত হয়ে পড়েছে। সরকার এখন জনগণের কাঠগড়ায় আর যুদ্ধাপরাধ আইন এখন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো।

পরিশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জন বুজম্যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লেখা এক চিঠির কয়েকটি লাইন দিয়েই শেষ করছি। তিনি লিখেছেন- এই আইনেরৱ প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এই আইনের মাধ্যমে বিচারকাজ চালিয়ে গেলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিতর্ক বাড়বে। যেহেতু জামায়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে প্রধান প্রতিপক্ষকে দুর্বল করাই হলো ট্রাইব্যুনালের প্রথম কাজ; এ বিশ্বাসই সমাজে এখন বিদ্যমান। এ বিশ্বাস এখন বিশ্ববাসীর।
http://www.sonarbangladesh.com/articles/DrMohammadRejaulKarim