ঢাকা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭, সোমবার রাত; ০৮:৩৬:৩৫
  

গুলির নির্দেশে জনমনে আতংক-ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম


ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম \"\"

গুলির নির্দেশে জনমনে আতংক

02 Feb, 2013
ফ্রান্সে তখন প্রেসিডেন্ট দ্যাগল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। জ্যাঁ পল সাঁত্রের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট দ্যাগলের বিরুদ্ধে রাজপথে চলছে অপ্রতিরোধ্য মিছিল। সাঁত্রেকে গ্রেফতার করতে না পারলে এ মিছিল বন্ধ করা সম্ভব হবে না ভেবে পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ দ্যাগলের বাসবভনে উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনার অনুমতি না পেলে সাঁত্রেকে কী কওে গ্রেফতার করব? তার নেতৃত্বে যে মিছিল বেরিয়েছে তা বন্ধ করতে না পারলে ভয়ানক রুপ নেবে। প্রেসিডেন্ট দ্যাগল মৃদু হেসে জবাব দিয়েছিলেন- I am France. Jean Paul Sartre (জ্যাঁ পল সাঁত্রে) is also France . তাকে গ্রেফতার করবে কি করে? তোমরা তার মিছিল থেকে সমস্ত পুলিশ বেষ্টনী তুলে নাও। তাদের শান্তিপূর্নভাবে মিছিল করতে দাও। দ্যাগেলের নিদের্শমতো মিছিল থেকে পুলিশ বেষ্টনী প্রত্যাহার করা হয়। তারপর শান্তিপূর্নভাবে মিছিল প্যারিসের বড় বড় রাস্তাগুলো দক্ষিণ করে। এই প্রক্ষাপট গোটা পরিস্থিতি পাল্টে দেয়। প্রেসিডেন্ট দ্যাগল নিজের নাগরিক অধিকারের সাথে প্রতিপক্ষের অধিকার কেও স্বীকার করেছেন। কিন্তু আমাদেও যারা-ই ক্ষমতায় যায় তারা অন্যেও নাগরিক অধিকারকে বেমালুম ভুলে যান। আমাদের সরকার কি এমন উদারতার নজীর সৃষ্টি করতে সক্ষম?? সম্ভবত, না সূচক উত্তরই আসবে। কারণ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম,খা আলমগীর সাহেব তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভ্যানিটিব্যাগ চুরির মামলা ঠুকতে ও দ্বিধা করেনি, তার নিকট এমন উদারতা আশা করা যায়? যে দেশের প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে নোংরা ভাষায় অহরহ আক্রমন করেন। সেখানে এই সরকারের নিকট রাজনৈতিক উদারতার এমন ঘটনা কামার দোকানে কুরআন তেলাওয়াতের মত বৃথা নয় কি?

বিগত চার বছর এই সরকার অত্যান্ত ঘৃন্যকায়দায় জামায়াত-শিবিরকে দমন করার চেষ্ঠা করেছে। আওয়ামীলীগ মনে করেছে জামায়াত-শিবির নি:শেষ হয়ে গেছে। গত ৫ নভেম্বও থেকে তারা দলীয় ডাকে এককভাবে দুটি সফল হরতাল,অবরোধও জোটের কর্মসূচীতে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে জানান দিয়েছে তারা এখনো স্ব-মেরুতেদণ্ডায়মান। এতে কওে জামায়াত-শিবির হয়ে উঠে ”ট্যাক অব দ্যা কান্টি” তাছাড়া দেশীয় ও আন্তজাতিক আঈিনায় ও দলটি অপূতপূর্ব শিরোনামে আর্বিবূত হয়। শিবির অনেকটা মানুষের মুক্তি আন্দোলনের প্রথমকাতাওে চলে আসে। সরকার হয়ে পড়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায়। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ কওে বলেছে-”আওয়ামীলীগ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীর উপর ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে। সারাদেশে পুলিশি হামলায় আহত হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মী। নিখোঁজ রয়েছে অনেক নেতাকর্মী। পুলিশ-ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত অনেকেই। এ ছাড়া সরকারের শাসনামলে জামায়াত ও শিবিরের প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয় প্রায় ৪ হাজার এরমত। আসামী সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার । হত্যা করা হয়েছে অনেককে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের পঈু হয়েছে অনেকেই। মহিলাকর্মী গ্রেফতার করা হয় প্রায় ৮০ জন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের হয়রানী ও গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন পর্দানসীন ছাত্রীগণ। অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় জামায়াত-শিবিরের শতাধিক কার্যালয়।

তাদেও অভিযোগ সরকার পুলিশ দিয়ে তাদেও সকল গনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরন করেছে। বলা যায় জামায়াত-শিবির আজ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। এর সাথে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে সম্প্রতি মতিঝিলে ছাত্রশিবির আর পুলিশ সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যেদেও হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের উপস্থিতিতে ডিএমপি পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য নিয়ে। একজন পুলিশ সদস্যের খোঁজখবর নেয়ার পর তিনি তাকে বলেন, অস্ত্র ছিল না? গুলি করতে পারোনি? এখন থেকে শিবির দেখামাত্র গুলি করবা। এরপর তিনি পায়ে আঘাত পাওয়া আরেক কনস্টেবলকে দেখতে গিয়ে বলেন পায়ের আঘাত সুস্থ হয়ে ওদের পা ভেঙে দিবা।” ( নয়া দিগন্ত) প্রথমত হচ্ছে-ডিএমপি কমিশনার মহাপরিদর্শকের উপস্থিতিতে এমন নির্দেশ দিতে পারেন কিনা? দ্বিতীয়ত- দেশে এখন গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সুতরাং সে অবস্থায় এমন বক্তব্য প্রজাতন্ত্রেও একজন কর্মকর্তা কোন সিদ্ধান্তের বদৌলতে দিলেন?। তৃতীয়ত- যদি ধরেও নেই আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের স্বরাষ্ট মন্ত্রীর আস্থা অর্জন করে পদোন্নতির জন্য এমন কথা তিনি এমন বলেছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো কোন কনস্টেবল কে এমন নির্দেশ কমিশনার সাহেব দিতে পারেন কি? পুলিশ কমিশনারের এমন বক্তব্যেও সুযোগ নিয়ে যদি সত্যিই কেউ গুলি করেন এবং প্রাণ হানির ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায়দায়িত্ব কমিশনার সাহেব এড়াতে পারবেন কি? আর শিবির যেহেতু কারো ঘায়ে লেখা থাকেনা তাহলে পুলিশ কাকে গুলি করবে। শিবিরের কর্মসূচী জনশূন্য কোন এলাকায় যেহেতু হয়না বরং জনসমাজের মাঝে হয়, তাহলে এই গুলিতে সাধারণ মানুষের জীবনের দায়িত্ব নেবে কে? এই প্রশ্নগুলোর কারণ সদুত্তোর কমিশনার সাহেবের কাছে আছে কি?

মুলত: সামরিক সরকার সভা-সমাবেশ বা সরকারবিরোধী আন্দোলন দমন করতে কারফিউ জারি বা সান্ধ্য আইন জারি করে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়ে থাকে। তবে শর্ত হচ্ছে অবশ্যই পুলিশের সাথে ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে হবে। পুলিশ কেবলমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে গুলি করতে পারবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়া গুলি করার নির্দেশ দিতে পারেন না। সবচেয়ে আশংকার ব্যাপার হচ্ছে সেদিন মহানগর পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যের মধ্যে ছিল হিংসাত্বক রুদ্রমূর্তিভাব ও প্রতিশোধস্পৃহা। জনগনের ট্যাক্সেও টাকায় বেতনভুক্ত পুলিশ জনগনের সাথে এমন ঔদ্ধত্যপূর্নূ আচরন কতটুকু যুক্তি সম্মত?। পুলিশের পোশাক পরে কমিশনার সাহেবের দলীয় ক্যাডারের মত এমন বক্তব্য গোটা জাতিকে হতবাক ও আতংকিত করেছে।
অবশ্য আমাদের কমিশনার সাহেবের এমন কঠিন বক্তব্যের শক্তির উসৎ তিনি বিশেষ জেলার লোক বলে কথা!! হয়তোবা এই শক্তির বদৌলতেই কমিশনার বেনজির সাহেব শিবির দেখা মাত্র গুলি করতে বলেছেন!! পুলিশে বিশেষ দুই জেলার নাগরিকদের গণহারে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী- মহাজোট সরকারের চার বছরের শাসনামলে পুলিশ বিভাগে ৩২ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ আছেন আট হাজার আর কিশোরগঞ্জের সাত হাজার। রাজধানীতে কর্মরত বেশির ভাগ পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ী এই দুই জেলায়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারও আছেন। এভাবে পুলিশকে দলীয় ও আঞ্চলিক বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। এতে গোটা পুলিশ বাহীনীতে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে। গোটা পুলিশ পকেটবাহীনীতে পরিণত হয়েছে। আমাদেও মনে রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় মেরুদণ্ড তুল্যএই বাহিনী পরিচালনা যেন কারো খেয়াল-খুশীর আজ্ঞাবহ বাহিনীতে রূপান্তরিত না হয়। কারণ বিডিয়ার বিদ্রোহের সেই মর্মান্তিক বেদনা আর রক্তাক্ত ইতিহাস আমাদেরকে এখনো তাড়া করে। পাশাপাশি এর কারনে পুলিশে সৎ ও দক্ষ ব্যাক্তিরা শুধু বন্চিত হচ্ছে না বরং পুলিশবাহীনী দূর্বল হয়ে পড়বে। চাটুকার আর অযোগ্য ব্যাক্তিরা মন্ত্রী-এমপির দেও মনযুগিয়ে গুরুত্বপূর্ন পদে আসীন হবে। এটি কারো জন্যই মঙ্গল নয়।

ছাত্রশিবির তাদের একটি লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন করছে। সম্ভবত তাদের নেতৃবৃন্দেও মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। তাছাড়া মিছিল-মিটিং সভা-সমাবেশ এটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার কে শক্তি দিয়ে দমন করা সংবিধানের সুস্পষ্ঠ লংঘন নয় কি? তাছাড়া শিবির কোন হিংস্র জন্তু-জানোয়ার ও নয় যে দেখলেই গুলি করতে হবে। বরং ছাত্রলীগের সন্ত্রাস দূনিতি,হত্যা,টেন্ডারবাজি,চাদাবাজি, নারী নির্যাতন সহন দুর্গন্ধময় পাহাড় সম অপরাধের মাঝে ছাত্রশিবির তাদেও নিজস্ব মেধা, নৈতিকতা কল্যাণধর্মী ব্যাতিক্রম কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মাঝে আশার আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়েছে। কমিশনার সাহেব যাদেও গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা ,মেডিক্যাল,ইন্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্র। তারা অনেকে বিসিএস সম্পন্ন করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে রাখছে বিভিন্ন পেশায় কৃতিত্বপূর্ন অবদান। শুধু শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কি তাদের রোখা সম্ভব? আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে পুলিশ-ছাত্রলীগ যুবলীগের এই সশন্ত্র লড়াই ছাত্রশিবির মোকাবেলা করছে লাঠি আর পাথর দিয়ে। আজ পর্যন্ত কোন মিডিয়াই ছাত্রশিবিরের ছেলেদেও কোন অস্ত্রেও ছবি দেখাতে পারেনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের প্রতি সহানুভুতি তৈরী হয়েছে। আর জনগনের এই ভালোবাসা ও সহানুভুতি ধরে রাখতে অবশ্যই জ্বালাও-পোড়াও জনগনের প্রাণ এবং সম্পদহানি যেন না ঘটে সে বিষয়ে শিবিরকে নজর রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোন দুষ্কিতিকারী ভিতওে প্রবেশ কওে যাতে পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে সেদিকেও। লক্ষনীয় বিষয় শিবিরের বিরুদ্ধে নাশকতার যত গল্প-ই আটা হোকনা কেন শিবির তার নিজস্ব চরিত্র ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা রুখে দাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এতো জামায়াত-শিবির গ্রেফতার হলো কেউ প্রমান করতে পারেনি শিবির ধুমপায়ী,চাদাবাজ,মদ,গাজা পেনসিডিল,সহ কোন অসামাজিক ও অনৈতিক কাজের সঈে জড়িত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেও মতে এই সরকার নিজেই জনগনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরকে এগিয়ে দিয়েছে। মানুষের মধ্যে তাদেও কে জানার আগ্রহ ও আন্দোলনে প্রথমকাতারে নিয়ে এসেছে। এটি তারা আগামী নির্বাচনে সফলভাবে কাজে লাগাবে। তাদের বিরুদ্ধে নেয়া অনেক কর্মকান্ডেই এখন সরকারের জন্য বুমেরাং হচ্ছে। বিগত চারবছর সরকার ও কতিপয় পুলিশ এটা বলে আসছে জামায়াত-শিবির রাজপথে গাড়ী ভাংচুর কওে এবং আগে পুলিশের উপর হামলা করে । কিন্তু জামায়াত বলছে তাদেরকে গনতান্ত্রিক কর্মসূচী পালনের সুযোগ দিচ্ছেনা সরকার। তারা শান্তিপূর্ন কর্মসূচী পালন করতে চায়। জামাতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল সংবাদপত্রের মাধ্যমে এমন চ্যালেন্জই দিয়েছিলেন। গত ৩১ তারিখে হরতাল চলাকালে খুলনা রাজশাহীসহ দেশের অনেকস্থানে পুলিশের অনুমতি নিয়ে তাদেও সহযোগীতায় জামায়াত-শিবির মিছিল করছে শান্তিপূর্নভাবে। তাছাড়া বগুড়ায় তাদের চার নেতা কর্মী নিহত হবার প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২রা ফেব্রুয়ারী রাজধানী ঢাকায় জামায়াত-শিবির কে পুলিশ মিছিল করার অনুমতি প্রদান করে। এই শান্তিপূর্ন মিছিল ছিল” ট্যক অব দ্যা সিটি” মিডিয়ার রিপোট অনুযায়ী এই মিছিল জনমনে সস্তি এনেছে কিছুটা হলেও । জামায়াত-শিবির রাজপথে মিছিল করতে দিলেই ভাংচুর আর জানমালের ক্ষতি সাধন কওে,পুলিশের এমন অভিযোগ জামায়াতের শান্তিপূর্ন মিছিল করার মাধ্যমে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। দেশের জনগনের প্রত্যাশা তারা উভয়ে এই ধারা অব্যাহত রাখবে।

পুলিশকে এখন দেশের সাধারণ মানুষ তাদেও নিরাপত্তা ওসেবা মুলক প্রতিষ্ঠান মনে করে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোট অনুযায়ী - পুলিশ এখন সবচেয়ে দূনীতি ও জননিরাপত্তা বিগ্নকারী ও ক্ষমতাসীন দলের ঠ্যাংগাড়ে বাহিনীতে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরি হয়েছে। এর ফলে দীঘস্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও জাতি। পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিযোগীতায় কোন সরকার-ই পিছিয়ে ছিলনা। কিন্তু আওয়ামীলীগ সেই প্রতিযোগীতায় শীর্ষে বলা যায়। সারা দেশে পুলিশ ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অপরাধ দমনের মতো পেশাদারি কাজ বাদ দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে।
গ্রেফতার করেই কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না কওে পুলিশ একদফা নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার গ্রেফতার কৃত ব্যাক্তির মোবাইল ফোনদিয়ে দলীয়কর্মীদেও ডেকে এনে গ্রেফতার করছে,আত্নীয় স্বজন থেকে দাবী করছে মোটা অংকের টাকা। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও নামে হাত বা পা ভেঙে চিরতরে পঈু কওে দিচ্ছে। পটুয়াখালীর লিমন আর ঢাবি ছাত্র রশীদ কে ধওে নিয়ে এসে দিচ্ছে নির্যাতন কওে পুলিশ সাজাচ্ছে খুনের আসামী!! পুলিশ কোন আইন বলে এভাবে বিনা মামলা আর ওয়ারেন্টে ছাড়াই বিরোধী দলের নেতা কর্মীদেও গ্রেফতারের করছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজিরের বিধানকে উপেক্ষা কওে পুলিশ কিভাবে তার ও অধিক সময় গোপন স্থানে আটকে রাখছে। এসব অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পুলিশের ওপর আরো ক্ষুব্ধ করে তুলছে।

কিন্তু আমরা দেখলাম রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য জামায়াত ও শিবিরের মিছিলে গুলি করছে পুলিশ। হরতালে পুলিশের গুলিতে দিনাজপুওে শিবির কর্মী নিহত হবার পর সর্বশেষ গত ৩১/০১/২০১৩ জামায়াতের ডাকা হরতালে বগুড়ায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছ ৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতা। এর দায়ভার অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আইন প্রতিমন্ত্রী সহ আওয়ামীলীগকে নিতে হবে। যারা গলা ফাটিয়ে যুবলীগ –ছাত্রলীগকে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিরোধ করার কথা বলছে এই হত্যা মামলায় একদিন তাদেরকে কাঠগড়ায় দাড়াতে হতে পারে। তাছাড়া-স্বরাষ্ট মন্ত্রী বিশ্বজিৎ হত্যা দায় এড়াতে পারবেন কি? কথায় আছে একমাঘে শীত যায়না। এই সরকারও শেষ সরকার নয়।

পুলিশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চার দিকে। বর্তমানে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে তরুণীর শ্লীলতাহানি, রাস্তায় সাংবাদিকদের পিটিয়ে হাত-পা গুঁড়িয়ে ফেলা, প্রকাশ্যে ছিনতাই-চাঁদাবাজি, নিরপরাধ মানুষকে দুর্বৃত্ত সাজিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলাসহ নানা অপরাধকর্মে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্য। অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় অসৎ পুলিশ সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আবার কোনো কোনো ঘটনায় অপরাধী পুলিশ সদস্যরা শাস্তির বদলে পুরস্কৃত হচ্ছেন। বর্তমানে পুলিশ বাহিনী এখন দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডারদের এখন পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতি দিয়ে সরকার এখন বিরোধী রাজনীতি দমনের কাজে ব্যবহার করছে। পুলিশ প্রজাতন্তের কমচারী হিসেবে নয়, বরং দলীয় আনুগত্যেও ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের ডিসি হারুনকে প্রেসিডেন্ট পদক দেয়ার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তার প্রমান-ই শুধু দেয়নি বরং অপরাধ করার প্রতিযোগীতায় এই বাহিনীকে উদ্ধুদ্ধ করেছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পেটানোর কারণে তাকে প্রেসিডেন্ট পদক দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্টমন্ত্রী ম,খা আলমগীর গণমাধ্যমে তার অবস্থানে অনড় থেকে তার সম্মানিত পদ শুধু পদদলিতই করেননি বরং এই পদে থাকা নৈতিক অধিকার ও হারিয়েছেন। এই বাহিনীতে পদোন্নতির অন্যতম যোগ্যতা আর দক্ষতা হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়ন চালানো। আওয়ামীলীগকে মনে রাখতে হবে বিরোধী দমন-ই যদি পুলিশ বাহিনীর পদোন্নতির স্থায়ী মানদন্ড হয়ে যায় তাহলে এই অস্ত্র-লঠি আর মিথ্যা মামলার অ-পপ্রয়োগএকদিন আপনাদেও উপর ও এসে পড়তে পারে । তাই সাধু সাবধান! সাবধান!!

‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এই প্রচারণা চালানো হলেও পুলিশের বাস্তব কর্মকাণ্ড এই বাহিনীকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ঢাকার আদালতপাড়ায় পুলিশের কতিপয় সদস্য যে ন্যক্কারজনক ঘটনা বিচারপ্রার্থী এক তরুণীকে পুলিশ কাবে নিয়ে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের নির্মমভাবে পেটানো হয়।

কিন্তু বাস্তব সত্য হল, নানা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ক্রসফায়ার, এনকাউন্টর, বন্দুকযুদ্ধ প্রভূতি নামে বিচারবহির্ভূত রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ড আজও অব্যাহত রেখেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের সঙ্গে লীগ সরকার যোগ করেছে এক ভয়াবহ নতুন উপসর্গ-গুম খুন। পুলিশ ও র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকধারী সশস্ত্র ব্যক্তিবর্গ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণদের তুলে নিয়ে যচ্ছে, কিন্তু তারা আর ফিরে আসছে না। কিছুদিন পর অপহৃত তরুণদের অনেকের লাশ পাওয়া যাচ্ছে দূরবর্তী নদী-নালায়, বন-জঙ্গল, কিংবা রাস্তার ধারে। অথচ পাশেই নিহত হচ্ছে সাংবাদিক সাগর-রুনি, আমীন বাজাওে ৬ ছাত্রনিহত প্রতিদিন অসংখ্য রুনের ঘটনা। এব্যাপাওে নেই পুলিশের পারঈমতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খ্যাতনামা সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা, রয়টার্স, এএফপি ও ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়াান। আলজাজিরা নেটওয়ার্ক প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে। ”\'বাংলাদেশে রাজনৈতিক নিখোঁজের মহামারী” (পলিটিক্যাল ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্লেইগ বাংলাদেশ)। অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে গত বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মানুষ গুম হয়েছে, যাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। আর এর সাথে সরকারী সংস্থাগুলো জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলে, তারা বাংলাদেশে মানুষ ‘গুম॥\' হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা সিলেটের দু॥\'জন ছাত্রদল নেতা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের দু॥\'জন নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অনুসন্ধান শেষে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই আইনশৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে। তাদের পায়ে বুট পরা থাকায় ধারণা করা হয় তারা সবাই আইনশৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

আমাদেও পুলিশী শাসন ব্যাবস্থারও কোন সংস্কার সাধন হয়নি। প্রায় প্রতিটি সরকার-ই তাদেও স্বার্থে পুলিশ কে ব্যাবহার করছে। ঔপনিবেশিক মনোভাব নিয়ে পুলিশ তার কর্মকান্ড পরিচালনা কওে আসছে। ফলে পুলিশ জনগনের সেবক না হয়ে প্রভুর ভুমিকায় কাজ করছে। পুলিশ কোন দলের সরকারের কর্মচারী নয়, তারা প্রজাতন্ত্রেও কর্মচারী। তাই দলের বা সরকারের না হয়ে প্রজাতন্ত্রেও আইন এবং নিয়মানুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই তাদেও দায়িত্ব। ঔপনিবেশিক শাসনের জের হিসেব এদেশে পুলিশী ব্যাবস্থা কায়েম হওয়ায় এই বাহিনী একটি দুষ্টচক্রে পরিণত হয়েছে। এখনো বের হয়ে আসতে পারেনি পুরাতন ধ্যান-ধারণা থেকে। ফলে সেখান থেকে সৎ ও নীতিবান লোক বেরিয়ে আসা বড়ই দুরহ। এই বাহিনীতেও অনেক সৎ,দক্ষ ভালো রয়েছে। তারা অনেকেই রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি শিকার না করলে আটকে যায় পদোন্নতি,কারো কপালে জুটে ওসএসডি অথবা বিশেষ জেলায় বদলি। তাই প্রয়োজন এই বাহীনীর জন্য প্রয়োজন নীতিমালা। বাড়ানো প্রয়োজন তাদেও বেতন ও সুযোগ সুবিধা। প্রশিক্ষন শুধু অস্ত্রেও না হয়ে চরিত্র,নৈতিক ও মানবিক প্রশিক্ষন বাড়ানো খুবই জরুরী। তাহলে ঘুষের লেনদেন বন্ধ হবে বন্ধ হবে দূনিতি। তাদেও মধ্যে জাগ্রত হবে আল্লাহ কিংবা ইশ্বরের কাছে জবাবদিহির অনুভুতি ও কর্তব্য পরায়নতা। আমার বিশ্বাস এই বাহিনী যদি দলীয় সংকীর্নতার উর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। দলীয় লেজুড়ভিত্তিতার পরিবর্তে রাষ্ট্রেীয় অনুগত্য,সততা,দক্ষতা,ও দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে জনগনের সেবা করে। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালনে যদি কোন অন্যায় আবদার ও কোন মহল বিশেষের শক্তির কাছে মাথা নত না করে। তাহলে আমাদের সেনাবাহিনী যেভাবে তাদেও নিজস্ব সততা,দক্ষতা ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করছে। সে দেশের সন্তানেরা পুলিশবাহিনীর মর্যাদাকেও সমুন্নত করতে সক্ষম হবে।
http://www.bdtoday.net/thisweekdetail/detail/301