ঈদ মুসলিম উম্মাহর ভাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের অন্যতম নিদর্শন-- ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

12:00:00

750 বার পঠিত


ঈদ মুসলিম উম্মাহর ভাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের অন্যতম নিদর্শন-- ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেছেন, ঈদ মুসলিম উম্মাহর ভাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের অন্যতম নিদর্শন। কিন্তু আন্তঃকলহ ও অনৈক্যের কারণেই আমরা তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। তাই ঈদকে অর্থবহ করে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে হলে বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। তিনি ঈদের শিক্ষায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করতে সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
তিনি আজ রাজধানীর মগবাজারস্থ শহীদ নিজামী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রমনা পশ্চিম থানা আয়োজিত এ ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। থানা আমীর মু. আতাউর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি ইউসুফ আলী মোল্লা, জামায়াত নেতা আকতার হোসেন, সুলতান মাহমুদ, গোলাম মাওলা, আবু সা’দ ও আবু সাঈদ মন্ডল প্রমূখ।
ড. এম আর করিম বলেন, বর্ষপরিক্রমায় আমাদের মাঝে ঈদ বারবার ফিরে আসে, আবার চলেও যায়। কিন্তু আমরা প্রতিবারই ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ক্ষমতাসীনদের অবৈধ ক্ষমতা লিপ্সার কারণেই জনমনে কোন স্বাচ্ছন্দ ও স্বস্তি নেই। মূলত সরকার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করার জন্যই বিরাজনীতিকরণের পথ বেছে নিয়েছে। দেশ পরিচালনায় সাংবিধানিক ও আইনের শাসনের অনুসরণ করা হচ্ছে না। সরকারের উপর্যুপরি জুলুম-নির্যাতনের কারণেই বিরোধীদলগুলো দেশ ও জাতির স্বার্থে কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে গণনিগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে। তারা জনপ্রিয় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে নাজেহাল ও দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করে রাখছে। তাদের জিঘাংসা ও প্রতিহিংসা থেকে রেহাই পাননি বর্ষীয়ান আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদও। এর আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ফ্যাসীবাদী সরকার সাবেক আমীরে জামায়াতে জামায়াত ও বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষনেতাদের একের পর এক অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। তাই স্বজনহারা ও মজলুম জনতার আর্তনাদের কারণে এ সরকারের আমলের কোন ঈদই উৎসবমুখ ও আনন্দঘন হয়ে ওঠেনি। তাই ঈদকে আনন্দঘন ও উৎসব মুখর করতে হলে জুলুমবাজ সরকারে পতনের কোন বিকল্প নেই। তিনি সরকারকে ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতালিপ্সার রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মকবুল আহমদ সহ সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা এবারের ঈদে ঘরফেরা মানুষের জন্য যাতায়াতকে নির্বিঘ্ন করতে পারেনি। ঈদ উপলক্ষ্যে গণপরিবহণ ও রাস্তাঘাটের কার্যকার কোন সংস্কার করা হয়নি। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী অনেক চটকদার গল্প শোনালেও গণপরিবহণ ও মহাসড়কগুলো মৃত্যুতে পরিণতি হয়েছে। কর্মস্থলে ফেরা মানুষগুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানীর শিকার হচ্ছেন। গতকালের একদিনেই মহাসড়কে ৪০ জন মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেটহীন সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করনি। মূলত সরকারের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই মহাসড়কগুলোতে এখন সীমাহীন জানজট সৃষ্টি হয়েছে। সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ না করে গণবিরোধীতায় লিপ্ত হয়েছে। তাই এই জুলুমবাজ সরকারের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন নেই। তিনি ব্যর্থ সরকারের জুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।