দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সক্রিয় হতে সকলের প্রতি আহ্বান-- ড. রেজাউল করিম

12:00:00

7 বার পঠিত


দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সক্রিয় হতে সকলের প্রতি আহ্বান-- ড. রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ না করে দেশের শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকগুলো থেকে লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মূলত কল্যাণ রাষ্ট্রের অনুপস্থিতির কারণেই জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আমরা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সমাজের খেটেখাওয়া মানুষের কল্যাণে এগিয়ে এসেছি। কিন্তু রাষ্ট্রের শূন্যতা কোন সংগঠন বা ব্যক্তি পর্যায়ে সমাধান সম্ভব নয়। তবুও আমরা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। গণমানুষের জন্য জামায়াতের এই কল্যাণকামিতা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে-ইনশা আল্লাহ। তিনি দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনে সক্রিয় হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।  

শুক্রবার রাজধানীতে হাতিরঝিল থানা জামায়াত পশ্চিম আয়োজিত রিক্সা শ্রমিকদের মাঝে রিক্সা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমীর মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ইউসুফ আলী মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি লস্কর মো. তসলিম ও সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ এবং উলামা বিভাগের সভাপতি ড. আহসান হাবীব। আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের থানা সভাপতি সুলতান মাহমুদ, জামায়াত নেতা গোলাম মাওলা, আখতার হোসেন, আবু তানজিল, আবু সাঈদ মন্ডল ও আবু সা’দ, রমনা থানা শিবির সভাপতি মেহেদী হাসান, হাতিলঝিল সভাপতি গোলাম সরওয়ার, শ্রমিক নেতা ওয়াদুদ সর্দার ও কবির আহমদ প্রমুখ। ২০১৮ সালে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় ২০টি রিক্সা বিতরণের কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৩টি রিক্সা বিতরণ করা হয়।

ড. রেজাউল করিম বলেন, জামায়াত কোন গতানুগতিক রাজনৈতিক দল নয়। মানবতার মুক্তির এক মহান ব্রত নিয়েই জামায়াতের ইসলামীর পথচলা শুরু হয়েছিল। আমরা অর্ধশতাব্দীরও অধিককাল ধরে ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যারা এই মহতি আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন সরকার প্রতিহিংসাবশত সেই শীর্ষনেতাদের নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে তাদের যোগ্যতর খেদমত থেকে দেশ ও জাতিকে বঞ্চিত করেছে। সরকারের বিরাজনীতিকরণের অংশ হিসেবেই জামায়াতকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। 

তিনি বলেন, সরকার শীর্ষনেতাদের হত্যা করেই থেমে থাকেনি বরং জামায়াতের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত কারারুদ্ধ রয়েছেন। অন্যরাও ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার গায়েবী মামলা দিয়ে নির্বাচনী ময়দানকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এজন্য তারা জামায়াতকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। মূলত শত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতের অগ্রযাত্রা কোনভাবেই রোধ করা যায়নি বরং সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই সেই খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শ অনুসরণে মানুষের কল্যাণে কার করা অব্যাহত রেখেছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে রিক্সা বিতরণ সে কল্যাণকামীতারই অংশ। তিনি সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। 

তিনি আরও বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনকেও দলীয় কার্যালয় বানিয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য থেকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার ৫ জানুয়ারির মত আরও একটি প্রহসনের নির্বাচন রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করছে। তারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিরোধী দলীয় দাবি উপেক্ষা ও নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করেই আবারো একটি পাতানো নির্বাচনের দিকেই আগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু জনগণ সরকারের সে ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি সরকারকে হঠকারীতা পরিহার ও নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন যুদ্ধে অংশ নিয়ে জনমত যাচাইয়ের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।