মগবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদানে ডঃ রেজাউল করিম

12:00:00

164 বার পঠিত


মগবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদানে ডঃ রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এসব বীর সন্তানদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বরং তারা বরাবরই উপেক্ষা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পূনর্বাসন করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

তিনি আজ (২৭.০৩.২০১৭) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর রমনা থানা আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সংগঠনের রমনা থানা নায়েবে আমীর জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও থানা সেক্রেটারী আতাউর রহমান সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান খান, আব্দুল খালেক ও খন্দকার আব্দুল ওয়াহিদ, জামায়াত নেতা খন্দকার রুহুল আমীন,আকতার হোসাইন, বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র নজরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ক্রেষ্ট ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

ড. করিম বলেন, মূলত মুক্তিযোদ্ধারা কোন দল বা গোষ্ঠীর নয়। তারা আমাদের জাতীয় বীর। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের নেতিবাচক ও সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণেই মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার ৪ দশক অতিক্রান্ত হলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা সম্ভব হয়নি বরং সরকারি দলের আস্থাভাজন লোকদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। আর যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে মরণপণ লড়াই করেছেন তাদের কেউ কেউ অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি নির্মম পরিহাস ছাড়া কিছু নয়। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে আমাদেরকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষ খুনসহ চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে কথিত প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্র তৈরির জন্য সরকার জঙ্গীবাদকে জিইয়ে রাখছে। তাদের দ্বারা এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। জঙ্গীবাদী তৎপরতা নির্মূল করতে হলে জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে। তিনি মানুষের নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ ও স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।