সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কারণেই এবারের রমজান ও ঈদ উদযাপন মোটেই আনন্দঘন ও উৎসবমূখর হয়ে উঠেনি---ড. রেজাউল করিম

12:00:00

1078 বার পঠিত


সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কারণেই এবারের রমজান ও ঈদ উদযাপন মোটেই আনন্দঘন ও উৎসবমূখর হয়ে উঠেনি---ড. রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ঈদ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির সেতুবন্ধন। কিন্তু অনৈক্য, আত্মকলহ ও বিভেদের কারণেই ঈদ বিশ্ব মুসলিমের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি, উন্নতি ও অগ্রগতির অনুসঙ্গ হয়ে ওঠছে না। তাই ঈদকে অর্থবহ করতে হলে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতির কোন বিকল্প নেই। তিনি মুসলমানদের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানান।
তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রামপুরা থানা আয়োজিত এক ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। থানা আমীর এফ ইউ মানিকের সভাপতিত্বে ও নায়েবে আমীর সাইয়্যেদ এইচ ঈমামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে নেতা প্রফেসর আব্দুল হালিম, ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদ, মনিরুজ্জামান শামীম, আব্দুস সবুর ফরহাদ, এম মনিরুজ্জামান, মাওলানা এম এ লতিফ, হাফিজুর রহমান, জহিরুল আলম, আবুল হাসনাত পাটোয়ারি ও মাওলানা মোবারক হোসাইন প্রমূখ।
ড. এম আর করিম বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম ও কিয়াম পালনের পর আমরা পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করলাম। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান। কারণ, দেশের সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা অনাকাঙ্খিতভাবে জিনিষপত্রে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে মূল্য পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তাই মাহে রমজানে সিয়াম পালন করা সবার জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক হয় না। মূলত সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণেই এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। মূলত এই গণবিরোধী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে জনদুর্ভোগ ততই বাড়বে। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের জুলুম-নিযাতনের কারণেই এবারের রমজান ও ঈদ উৎযাপন মোটেই আনন্দঘন ও উৎসবমূখর হয়ে ওঠেনি বরং নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকার বঞ্চিত মানুষের আহাজারীতে এবারের ঈদে উৎসবের আমেজ ছিল না। মূলত সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই জনগণের ওপর দলন-পীড়ন চালাচ্ছে। সরকার গণমানুষের জন্য সুশাসন উপহার দিতে পারেনি। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতেও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই তারা খুন, গুম, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে কথিত রিমান্ডের নামে নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সংবিধানে বহুদলীয় গণতন্ত্র স্বীকৃত হলেও সরকার প্রকারান্তরে দেশে একদলীয় বাকশালী ও ফ্যাসীবাদী শাসন কায়েম করেছে। তাই সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচতে হলে ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্যই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের বিধান গায়ের জোরে বাতিল করা হয়েছে। এখন দেশে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের নামে তামাশা চলছে। সে তামাশার অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। এ সরকারের আমলে স্থানীয় নির্বাচনগুলোও অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে না। সাম্প্রতিক খুসিক ও গাসিক নির্বাচনে ভোট ডাকাতির নির্লজ্জ মহড়া প্রদর্শন করেছে। অতীতে কোন সরকারের আমলেই জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে এভাবে পরিহাস করতে দেখা যায়নি। মূলত সরকার গণবিচ্ছিন্ন সরকার এখন পুলিশ ও পেশীশক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই এই গণবিরোধী সরকারের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে জনগণের সরকার কায়েমের কোন বিকল্প নেই। তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহবান জানান।