সীরাতুন্নবী (সাঃ) রচনা প্রতিযোগিতা ও ২১শে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

12:00:00

78 বার পঠিত


সীরাতুন্নবী (সাঃ) রচনা প্রতিযোগিতা ও ২১শে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহা্নগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, মূলত রাসুল (সা.) প্রদর্শিত জীবনাদর্শই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাই একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অহীর জ্ঞান ভিত্তিক ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এই মহান কাজের জন্য নিজেকে যোগ্যতর হিসেবে গড়ে তুলতে জ্ঞানার্জনের কোন বিকল্প নেই। তিনি সন্ত্রাস ও দূর্নীতিমুক্ত এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন বুদ্ধিভিত্তিক শান্তির সমাজ গঠনে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত পবিত্র সিরাতুন্নবী (স.) উপলক্ষ্যে রচনা প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও শিবিরের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম প্রমূখ।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সারা এবাদী, অলিউল ইসলাম ও ড. মোঃ আতীকুর রহমান।

সিরাতুন্নবী (সা.) রচনা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগে প্রথম পুরুস্কার ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরুষ্কার ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরুস্কার ১০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেকটি গ্রুপে আরও ৫জনকে বিশেষ পুরুস্কার প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে ১০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে ৮ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে ৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়াও কুইজ প্রতিযোগিতায় আরও ৫ জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা বলেন যথাক্রমে ‘ক’ গ্রুপ প্রথম প্রথম-মাইশা মুনাওয়ারা, ঢাকা। দ্বিতীয়-নাজিহা ইউসুফ, ঢাকা। তৃতীয়-আব্দুর রহমান আল গালিব, জামালপুর। চতুর্থ-মোছাঃ তৃষা খাতুন, কুষ্টিয়া। পঞ্চম-সারা এবাদী, ঢাকা। ষষ্ঠ- মাহবুবা আখতার, চাঁদপুর। সপ্তম- নাঈমা ইসলাম তামান্না, নরসিংদি এবং ৮ম- হাফেজা ইমতানা সিদ্দিকা।

‘খ’ গ্রুপ যথাক্রমে প্রথম-মোঃ জাবেদ হোসাইন, লক্ষ্মীপুর। দ্বিতীয়- মোঃ ইমাম হোসাইন, কক্সবাজার। তৃতীয়-জহিরুল ইসলাম, কুমিল্লা। চতুর্থ- মাহফুজুল আলম নাঈম, নরসিংদী। পঞ্চম-ড. মোঃ আতীকুর রহমান, ঢাকা। ষষ্ঠ- শামসুন্নাহার তরীক সাকী, কুষ্টিয়া। সপ্তম-জসিম উদ্দীন, কাতার ও অষ্টম- কানিজ ফাতিমা তমা, ঢাকা।
ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলেন যথাক্রমে-প্রথম-মোঃ ওমর ফারুক, ফেনী। দ্বিতীয়-মোঃ আলীউল ইসলাম. ঢাকা। তৃতীয়- আতাউল্লাহ, চাপাইনবাবগঞ্জ। চতুর্থ- ইমতিয়াজ বিন আহমেদ, চট্টগ্রাম। পঞ্চম- সানজিদা আকতার। ষষ্ঠ-ফজলুল করিম, চট্টগ্রাম। সপ্তম-মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ ও অষ্টম-মো. আল-আমীন, ঢাকা।

সেলিম উদ্দিন বলেন, রাসুল (স.) ছিলেন বিশ্ব শান্তির অগ্রসৈনিক। তার ২৩ বছরের নবুয়াতি জীবনে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাকে জীবনে অনেক যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু এসব যুদ্ধের কোনোটিই আক্রমণাত্মক ছিল না।

স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) ২৭টি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সাহাবিদের নেতৃত্বে ৫৭টি অভিযান পরিচালনা করেন। ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের পর মহানবী (সা.) বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে প্রভূত চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। এগুলো বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছিল। সে জন্যই মার্কিন পন্ডিত মাইকেল হার্ট মহানবী (স.)কে সর্ব যুগের ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী জর্জ বার্ণাডশ এর ভাষায়, ‘‘আমার বিশ্বাস নবী মুহাম্মদের মত কোন ব্যক্তি যদি বর্তমান বিশ্বের একনায়কের পদে আসীন হতেন, তাহলে তিনিই বর্তমান বিশ্বের সমস্যাবলীর এমন সমাধান দিতে পারতেন, যার ফলে সমস্ত বিশ্বে কাঙ্খিত শান্তি ও সুখ নেমে আসত।’’ তাই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় রাসুল (স.)এর জীবনাদর্শের প্রচার, প্রসার, অনুকরণ, অনুসরণ এবং অহীভিত্তিক জ্ঞানচর্চার কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দাসত্ব ও মহানবী (স.) এর রেখে যাওয়া আদর্শ থেকে বিচ্যুতির কারণেই মানব সভ্যতা ও মূল্যবোধ এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সকল স্তরেই এখন অবক্ষয়ের প্রাবল্য চলছে। মানুষের নৈতিকতা ও চরিত্রে ধ্বস নেমেছে। ফলে মানুষের উপর মানুষের জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, গুপ্তহত্যা, নারী নির্যাতন, ইভ টিজিং, আমানতের খেয়ানত, সুদ, ঘুষ, লুন্ঠন ও চাঁদাবাদী সহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে কুলুষিত করে ফেলেছে।

চারদিকে অধিকার বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের আহাজারী শোনা গেলেও ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠিত না থাকায় এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই শান্তির সমাজ, অপরাধ এবং বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদেরকে ইসলামী আদর্শের দিকেই ফিরে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মূলত ইসলামপন্থীরা ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন। তমুদ্দন মজলিশের মাধ্যমে এর বিস্তৃতি ঘটে। প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ভাষা আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা। তিনি ভাষার দাবিতে মানপত্রও পাঠ করেছিলেন। কিন্তু বামপন্থীরা ভাষা আন্দোলনের কৃতিত্ব ছিনতাই করে নিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা ও সংকীর্ণতার কারণেই অধ্যাপক গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এমনকি তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে অধ্যাপক গোলাম আযমকে গণমানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তাই মহান ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই আমরা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

মহানগরী আমীর বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সরকারের সকল ষড়যন্ত্র ও জুলুম-নির্যাতন, শত বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। জামায়াতে ইসলামী মূলত ইসলামী জ্ঞান চর্চার নিখুঁত পরিকল্পনা ও উন্নত চরিত্র গঠনের এক মজবুত সংগঠন হিসেব প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সাথে জনসেবা ও সমাজ সংস্কারের এক বাস্তব কর্মসূচি, জনকল্যাণমুখী আদর্শ রাষ্ট্র ও সরকার গঠনের নিয়মতান্ত্রিক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

তাই জাতির এই সংকটময় যুগসন্ধিক্ষণে ও সীমাহীন বৈরি পরিস্থিতি উপেক্ষা করেই সিরাতুন্নবী (স.) রচনা প্রতিযোগিতা ও ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যা নতুন প্রজন্মকে রাসুল(সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ ও ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে। তিনি বিশ^ মানবতার মুক্তির জন্য সকলকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে সমবেত হওয়ার আবহান জানান।